ওয়ারেন, ৭ জানুয়ারি : বাংলাদেশিসহ ৩৮টি দেশের নাগরিকদের জন্য নতুন ভিসা বন্ড চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, বাংলাদেশসহ তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য বি-১ (ব্যবসা) ও বি-২ (ভ্রমণ) ভিসার ক্ষেত্রে ভিসা বন্ড প্রদান বাধ্যতামূলক হবে। বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য এই নিয়ম চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
এই তালিকায় থাকা দেশগুলো হলো—আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডা, বাংলাদেশ, বেনিন, বুরুন্ডি, কেপ ভার্দে, কিউবা, জিবুতি, ডোমিনিকা, ফিজি, গ্যাবন, আইভরি কোস্ট, কিরগিজস্তান, নেপাল, নাইজেরিয়া, সেনেগাল, তাজিকিস্তান, টোগো, টোঙ্গা, টুভালু, উগান্ডা, ভানুয়াতু, ভেনেজুয়েলা, জিম্বাবুয়ে, ভুটান, বতসোয়ানা, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, গাম্বিয়া, গিনি, গিনি-বিসাউ, মালাউই, মৌরিতানিয়া, নামিবিয়া, সাও তোম ও প্রিন্সিপ, তানজানিয়া, তুর্কমেনিস্তান ও জাম্বিয়া।
ভিসা বন্ড একটি ফেরতযোগ্য আর্থিক জামানত, যার পরিমাণ হতে পারে ৫ হাজার, ১০ হাজার বা ১৫ হাজার মার্কিন ডলার। ভিসা ইন্টারভিউয়ের সময় কনস্যুলার অফিসার আবেদনকারীর জন্য নির্দিষ্ট অঙ্ক নির্ধারণ করবেন। এ জন্য আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির DHS Form I-352 পূরণ করতে হবে এবং অর্থ পরিশোধ করতে হবে কেবল সরকারি ওয়েবসাইট Pay.gov–এর মাধ্যমে। কনস্যুলার অফিসারের নির্দেশ ছাড়া আগাম অর্থ জমা দিলে তা ফেরতযোগ্য হবে না। উল্লেখ্য, বন্ড প্রদান করলেও ভিসা নিশ্চিত নয়।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভিসাধারীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও প্রস্থান করতে হবে নির্ধারিত তিনটি বিমানবন্দর দিয়ে—বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (জেএফকে) এবং ডালেস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। এসব শর্ত মানা না হলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হতে পারে বা প্রস্থান সঠিকভাবে রেকর্ড নাও হতে পারে।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানায়, এটি একটি পাইলট প্রোগ্রাম, যার মূল লক্ষ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবৈধভাবে অবস্থান (ওভারস্টে) কমানো। যেসব দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ফিরে না আসার হার তুলনামূলক বেশি, মূলত সেসব দেশকেই এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, নিচের পরিস্থিতিতে বন্ডের অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে—
• নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বা তার আগেই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে।
• ভিসা পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ না করলে।
• মার্কিন বিমানবন্দরে প্রবেশে বাধা পেলে।
তবে কেউ যদি নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করেন বা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করেন (যেমন রাজনৈতিক আশ্রয় বা অ্যাসাইলাম), তাহলে জামানতের অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হবে।
এই নতুন নিয়মের ফলে বাংলাদেশিদের জন্য মার্কিন ভিসা পাওয়া আরও ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বি-১ ও বি-২ ভিসার ব্যবস্থাপনা আরও নিয়ন্ত্রিত ও নির্ভরযোগ্য হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্ক :